আগা-মিরাজ রান-আউট বিতর্ক: এমসিসি (MCC) জানাল এটি পুরোপুরি নিয়মমাফিক ছিল
ঢাকা ওয়ানডেতে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগার (Salman Agha) বিতর্কিত রান-আউট নিয়ে উত্তাল ক্রিকেট বিশ্ব। বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মিরাজের (Mehidy Hasan Miraz) করা সেই রান-আউটটি সঠিক ছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে এবার মুখ খুলেছে ক্রিকেটের আইন প্রণেতা সংস্থা এমসিসি (MCC)।
এমসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘আইন অনুযায়ী এই রান-আউটটি ‘নট আউট’ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
ঘটনাটি কী ঘটেছিল?
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বল ফিল্ড করতে গিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ ও নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে থাকা সালমান আগার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বলটি মাঠে পড়ে থাকা অবস্থায় আগা সেটি হাতে নিয়ে মিরাজকে দিতে চেয়েছিলেন, সম্ভবত তিনি ভেবেছিলেন বলটি ‘ডেড’ (Dead ball) হয়ে গেছে। কিন্তু তার আগেই মিরাজ বলটি কুড়িয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন।

এমসিসি কী বলছে?
সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এমসিসি জানিয়েছে, আম্পায়াররা নিয়ম মেনেই আগাকে আউট দিয়েছেন। সংস্থার মতে:
- বল ইন-প্লে: স্টাম্প ভাঙার সময় বলটি খেলার মধ্যেই ছিল এবং আগা তার ক্রিজের বাইরে ছিলেন। তাই এটি স্পষ্টভাবে আউট।
- ডেড বল বিতর্ক: কোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে সংঘর্ষ হলেই বল ডেড হয়ে যায় না। যদি এমনটা হতো, তবে ফিল্ডিং দল ফায়দা লোটার জন্য ইচ্ছে করে সংঘর্ষের পথ বেছে নিত।
- অস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড (Obstructing the field): ব্যাটসম্যানের অনুমতি ছাড়া বল হাতে নেওয়া উচিত নয়। আগা যদি বলটি হাতে তুলেই ফেলতেন, তবে তিনি ‘অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড’ আইনের আওতায় আউট হতে পারতেন।
‘স্পিরিট অফ ক্রিকেট’ বনাম আইনের শাসন
আগা ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, তিনি ফিল্ডার হলে হয়তো আবেদন তুলে নিতেন এবং ‘স্পিরিট অফ ক্রিকেট’ (Spirit of Cricket) বজায় রাখতেন। এর প্রেক্ষিতে এমসিসি বলেছে, ‘আবেদন তুলে নেওয়ার অধিকার সম্পূর্ণ ফিল্ডিং দলের। তারা চাইলে স্পিরিট অফ ক্রিকেটের খাতিরে ব্যাটসম্যানকে ক্রিজে থাকতে দিতে পারত। কিন্তু আইন অনুযায়ী ব্যাটসম্যান আউট এবং তাতে কোনো ভুল নেই।’
এমসিসি আরও জানায়, অক্টোবরে নতুন আইন কার্যকর হলেও এই পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হতো না। কারণ, যে বলের কাছাকাছি ফিল্ডার রয়েছেন এবং তিনি ব্যাটসম্যানকে আউট করার চেষ্টা করছেন, সেই বলকে কিছুতেই ‘স্থির’ বা ‘ডেড’ বলা যায় না।
সব মিলিয়ে, নিয়ম এবং প্রযুক্তির এই যুদ্ধে বাংলাদেশ দলের আবেদনটি যে আইনসম্মত ছিল, তা এমসিসি’র এই বার্তায় আবারও প্রমাণিত হলো।

Leave a Reply