ক্যাচিং দুঃস্বপ্ন পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শ্বাসরুদ্ধকর জয়: কিং ও মুনি’র দুর্দান্ত পারফরম্যান্স! (Australia’s Thrilling Win: King & Mooney Shine Despite Catching Nightmare!)
ওয়েস্ট ইন্ডিজের (West Indies) বিরুদ্ধে প্রথম T20I ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া (Australia) এক শ্বাসরুদ্ধকর জয় ছিনিয়ে নিয়েছে! পাঁচটি নিশ্চিত ক্যাচ ফেলার অবিশ্বাস্য ভুলের পরেও, সফরকারীরা ৪৩ রানের এক আরামদায়ক জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। এই জয়ের নেপথ্যে ছিলেন দুই তারকা পারফর্মার – বেথ মুনি (Beth Mooney) এবং আলানা কিং (Alana King)। তাদের অসাধারণ খেলা অস্ট্রেলিয়ার ‘ক্যাচিং দুঃস্বপ্ন’কে ম্লান করে দিয়েছে!
স্কোরকার্ড (Scorecard):
- অস্ট্রেলিয়া (Australia) ১৬৪/৬ (মুনি ৭৯, ডটিন ৩-৩৫, হেনরি ২-২৮)
- ওয়েস্ট ইন্ডিজ (West Indies) ১২১/৬ (জোসেফ ৪৫, কিং ৩-১৪, ওয়ারেহাম ২-১৪)
অস্ট্রেলিয়া ৪৩ রানে জয়ী (Australia won by 43 runs)।
মুনি’র ব্যাটে রানের ফোয়ারা: একাই সামলালেন ইনিংস (Mooney’s Batting Blitz: Anchoring the Innings)
একদিকে যখন অন্য ব্যাটাররা রান তুলতে রীতিমতো সংগ্রাম করছিলেন, বেথ মুনি (Beth Mooney) তখন একাই ৭৯ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেছেন, মাত্র ৫৫ বলে! তার এই লড়াকু ইনিংসটিই ছিল অস্ট্রেলিয়ার মোট ১৬৪/৬ রানের স্তম্ভ। এলিস পেরি’র (Ellyse Perry) সাথে ৯৯ রানের পার্টনারশিপ (partnership) গড়ে তিনি দলের ইনিংসকে পথ দেখিয়েছেন। পাওয়ারপ্লে’তে (Powerplay) যেখানে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ৩৪/২ রান তুলে ধুঁকছিল, সেখানে মুনির ধীরস্থির শুরু এবং পরে গিয়ার বদলানোর ক্ষমতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
১০ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ৫৭/২, রান রেট (run rate) ছিল বল প্রতি এক রানেরও কম! কিন্তু ড্রিংকস ব্রেকের (drinks break) ঠিক আগে, হেইলি ম্যাথিউসকে (Hayley Matthews) কভারের (cover) উপর দিয়ে উড়িয়ে মেরে ২১ বলের বাউন্ডারি খরা কাটান মুনি। এরপরই বদলে যায় খেলার গতি। কারিশমা রামহারাকের (Karishma Ramharack) ওভারে পেরি পরপর চার ও ছয় মারেন, এবং ১৪তম ওভারে জাজারা ক্ল্যাক্সটনকে (Jahzara Claxton) লং-অন (long-on) দিয়ে উড়িয়ে মেরে মুনি তার ৪২ বলে অর্ধশতক (fifty) পূর্ণ করেন। যদিও ডেথ ওভারে (death overs) ডিয়ান্ড্রা ডটিন (Deandra Dottin) ও চিনেল হেনরি’র (Chinelle Henry) নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার রানের গতি কিছুটা কমে যায়, শেষ চার ওভারে আসে মাত্র তিনটি চার।
ক্যাচিং বিভীষিকা: ক্যাচ ধরো, অথবা নয়! (Catching Nightmare: Catch It, Or Not!)
এই ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য এক ‘ক্যাচিং দুঃস্বপ্ন’ হয়ে ছিল! যদিও শেষ পর্যন্ত এটি তাদের জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি, কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া বুঝি আর কোনো ক্যাচই ধরতে পারবে না! এই ‘ড্রপিং ট্রেন্ড’ (dropping trend) শুরু হয়েছিল আলানা কিং-এর (Alana King) হাত ধরে, যখন তিনি হেইলি ম্যাথিউসের (Hayley Matthews) একটি কঠিন ক্যাচ ফেলে দেন। এরপর তাহলিয়া ম্যাকগ্রাথ (Tahlia McGrath) মিড-অফে (mid-off) একটি সহজ ক্যাচ ফেলেন, আবারও ম্যাথিউসকে জীবন দেন!
নবম ওভারে ডিপ স্কোয়ার লেগে (deep square leg) কিং-এর হাত ফসকে যায় আরও একটি ক্যাচ, এবং এরপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ড্রিংকস ব্রেকের পরপরই এলিস পেরি (Ellyse Perry) লং-অনে (long-on) একটি ‘সিটার’ ক্যাচ ফেলেন, এবং কিছু ওভার পর জর্জিয়া ভোল (Georgia Voll) মিড-অফে (mid-off) একটি দ্রুতগতির ড্রাইভ (drive) ধরতে ব্যর্থ হন। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক সোফি মলিনাক্স (Sophie Molineux) স্বীকার করেছেন, “আমাদের এই ভুলগুলো শুধরে নিতে হবে।” তবে ভালো খবর হলো, ক্যাচ মিস (catch miss) হওয়া সত্ত্বেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য প্রয়োজনীয় রান রেট (asking rate) ক্রমশ বাড়তেই থাকে, যা তাদের নাগালের বাইরে চলে যায়।
কিং-এর রাজত্ব: বল হাতে অপ্রতিরোধ্য (King Reigns: Unstoppable with the Ball)
আলানা কিং (Alana King), যিনি সম্প্রতি ভারতের (India) বিরুদ্ধে T20I স্কোয়াডে (squad) জায়গা পাননি (যেখানে জর্জিয়া ওয়ারেহামকে (Georgia Wareham) এক নম্বরে রাখা হয়েছিল), এই ম্যাচে তার পারফরম্যান্স দিয়ে নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন! তার স্পেলটি (spell) ছিল অবিশ্বাস্য। ফিল্ডিংয়ের ভুলের মধ্যেই তিনি হেইলি ম্যাথিউসের (Hayley Matthews) মতো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট (wicket) তুলে নেন, যিনি পাওয়ারপ্লেতে (powerplay) স্ট্রাইক (strike) পেতে ব্যর্থ হয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে ডট বলের (dot balls) আধিক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোল যখন পঞ্চম ক্যাচটি ফেলে দেন, ঠিক তার পরের বলেই কিং শেমাাইন ক্যাম্পবেলকে (Shemaine Campbelle) রিভার্স সুইপ (reverse sweep) করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ’র (LBW) ফাঁদে ফেলেন। এরপর বৃষ্টির কারণে সংক্ষিপ্ত বিরতির (rain delay) পর, তিনি ডিয়ান্ড্রা ডটিনের (Deandra Dottin) সুইপকে (sweep) পরাস্ত করে কার্যত ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঘুরিয়ে দেন। তার ৩/১৪ বোলিং ফিগার (bowling figure) ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে!
এক রোমাঞ্চকর জয় (A Thrilling Victory)
সব মিলিয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া মহিলা দলের এই জয়টি ছিল নাটকীয় এবং রোমাঞ্চকর। ফিল্ডিংয়ের ভুলের পাহাড় ডিঙিয়ে, মুনি ও কিং-এর ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে অস্ট্রেলিয়া দেখিয়েছে কেন তারা বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা দল। এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেবে এবং আসন্ন ম্যাচগুলির জন্য দারুণ অনুপ্রেরণা যোগাবে!
অ্যান্ড্রু ম্যাকগ্ল্যাশন (Andrew McGlashan) কর্তৃক প্রকাশিত: মার্চ ২০, ২০২৬, সকাল ১০:০২ (Published by Andrew McGlashan: Mar 20, 2026, 10:02 AM)

Leave a Reply