দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহাসিক সিরিজ জয়: এস্টারহুইজেন ও বোলারদের সম্মিলিত দাপট!
ক্রিকেটপ্রেমীরা, শ্বাসরুদ্ধকর এক সিরিজের চূড়ান্ত পরিণতি দেখতে প্রস্তুত তো? নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এক ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি (T20I) সিরিজ জয় নিয়ে ফিরছে দক্ষিণ আফ্রিকা! শুভ্র কনরাডের (Shukri Conrad) অধীনে প্রথম অ্যাওয়ে সিরিজ জয়, আর তাও ৩-২ ব্যবধানে! এই জয়ের পেছনে রয়েছে এক তরুণ তুর্কির বিস্ফোরক ব্যাটিং আর বোলারদের সম্মিলিত দাপট। ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রোটিয়ারা (Proteas) যেন নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়েছে!
এস্টারহুইজেনের ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠা: সিরিজের নায়ক!
পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে কি অসাধারণ এক পারফরম্যান্স দেখালেন কনার এস্টারহুইজেন (Connor Esterhuizen)! পরপর দুই ম্যাচে অর্ধশতক (half-century) হাঁকিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন, প্রোটিয়াদের ভবিষ্যতের তারকা তিনি! এই সিদ্ধান্তসূচক ম্যাচে মাত্র ৩৩ বলে ৭৫ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকাকে এনে দিলেন সিরিজের সর্বোচ্চ ১৮৭ রানের বিশাল পুঁজি।
তার অন-সাইডে (on-side) আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো, ৫২ রানই এসেছে এই অর্ধ থেকে, যার মধ্যে ছিল ৬টি ছক্কা (sixes)! কাইল জেমিসন (Kyle Jamieson) এবং বেন সিয়ার্স (Ben Sears)-এর মতো বোলারদের বিপক্ষে শেষ দুই ওভারে ২৫ রান তুলে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, পেসারদের (pacers) বিরুদ্ধেও তিনি কতটা কার্যকর। পুরো সিরিজে ২০০ রান করে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডেভন কনওয়ের (Devon Conway) চেয়ে ১০০ রান বেশি করেছেন – এ যেন স্বপ্নের মতো এক অভিষেক সিরিজ!
রুবিন হারমান (Rubin Hermann)ও শুরুটা দারুণ করেছিলেন, ৩৯ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে তিনি এস্টারহুইজেনকে চমৎকার সঙ্গ দেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিক কেলির (Nick Kelly) অবিশ্বাস্য এক ‘সুপারম্যান ক্যাচ’ (superman catch) তাকে প্যাভিলিয়নে ফেরায়। কিন্তু ততক্ষণে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে উঠেছে।
বোলারদের দাপট: প্রোটিয়াদের অসাধারণ পারফরম্যান্স!
১৮৭ রানের পুঁজি রক্ষা করা সহজ ছিল না, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার ছয় বোলার (bowlers) মিলে নিউজিল্যান্ডকে (New Zealand) কখনোই ম্যাচের লাগাম ধরতে দেননি। পাওয়ারপ্লেতে (powerplay) নিউজিল্যান্ডের স্কোর ছিল ৪৬/২, যা লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে। গెరাল্ড কোয়েটজি (Gerald Coetzee) ছিলেন তাদের আক্রমণের মূল স্তম্ভ।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) থেকে বাদ পড়ার পর এবং পেশীর চোট (pec muscle tear) থেকে ফিরে এসে কোয়েটজি যেন এক অন্য রূপে আবির্ভূত হয়েছেন! তিনি সিরিজের যুগ্ম সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী (joint-leading wicket-taker) এবং সর্বনিম্ন ইকোনমি রেট (economy rate) বোলার হিসেবে শেষ করেছেন। এই ম্যাচে ২১ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন, যেখানে তিনি তার শেষ বলের আগে কোনো বাউন্ডারি (boundary) হজম করেননি! জশ ক্লার্কসন (Josh Clarkson) এবং কোল ম্যাককঞ্চি (Cole McConchie)-এর গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে তিনি নিউজিল্যান্ডের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।
এছাড়াও উইয়ান মাল্ডার (Wiaan Mulder) এবং ওটনেল বার্টম্যান (Ottneil Baartman) প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন, যা প্রমাণ করে প্রোটিয়া বোলিং আক্রমণ কতটা শক্তিশালী ছিল।
নিউজিল্যান্ড তাদের প্রথম সারির পাঁচ খেলোয়াড়কে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল, এমনকি অধিনায়ক টম ল্যাথামও (Tom Latham) চোটের কারণে খেলতে পারেননি। বেভান জ্যাকবস (Bevan Jacobs) ২৬ রান করলেও, জিমি নিশাম (Jimmy Neesham) ও জ্যাকবসের ৫২ রানের জুটি ছাড়া তাদের ব্যাটিংয়ে বড় কোনো পার্টনারশিপ (partnership) দেখা যায়নি, যা তাদের হারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও রোমাঞ্চকর ঘটনা
এই ম্যাচটি শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের জন্যই নয়, কিছু নাটকীয় মুহূর্তের জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পুরো ম্যাচে দুই দল মিলে ৯টি ক্যাচ ফেলেছে, যা ২০১৭ সালের জুন মাস থেকে পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ! তবে জেসন স্মিথ (Jason Smith) একটি ক্যাচ ফেললেও পরে দারুণভাবে ফিরে আসেন, ক্লেভারের (Cleaver) গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচটি নিয়ে তিনি ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন। নিক কেলির সেই ‘সুপারম্যান ক্যাচ’ যা রুবিন হারমানের ইনিংসের ইতি টানে, তা নিঃসন্দেহে ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত ছিল!
দক্ষিণ আফ্রিকার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ!
এই সিরিজ জয় শুধু একটি জয় নয়, এটি দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের জন্য এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন! তরুণ কনার এস্টারহুইজেনের উত্থান এবং বোলারদের সম্মিলিত প্রয়াস প্রমাণ করে, প্রোটিয়াদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। শুভ্র কনরাডের নেতৃত্বে এই দলটি যে কোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর ক্ষমতা রাখে, তা তারা আবারও প্রমাণ করল। ক্রিকেটপ্রেমীরা, এই জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই পরবর্তী সিরিজের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করুন! প্রোটিয়ারা আসছে, আরো শক্তিশালী হয়ে!

Leave a Reply