Pakistan’s DRS Complaint: Controversy in Bangladesh vs Pakistan 3rd ODI

মিরপুরে চরম নাটকীয়তা: বাংলাদেশের রিভিউ নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাকিস্তানের!

মিরপুরে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে (ODI) শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা যেন থামছেই না! ম্যাচটি কেবল বাংলাদেশের জয়ের জন্যই নয়, বরং আম্পায়ারিং এবং ডিআরএস (DRS) নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জন্য ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশীদের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। তাদের মূল আপত্তি—ফিল্ডিং দলের রিভিউ নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে।

আসলে কী ঘটেছিল সেই মুহূর্তে?

ম্যাচের তখন চরম উত্তেজনার মুহূর্ত। শেষ দুই বলে পাকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ১২ রান। রিশাদ হোসেনের করা বলটি লেগ স্টাম্পের অনেক বাইরে দিয়ে যাওয়ায় অন-ফিল্ড আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা সেটিকে ‘ওয়াইড’ (Wide) সংকেত দেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই বাংলাদেশ দল এলবিডব্লিউয়ের (LBW) জন্য রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

পাকিস্তানের অভিযোগ, স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় রিপ্লে দেখার পরেই বাংলাদেশ রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আইসিসির খেলার নিয়ম (Playing Conditions) অনুযায়ী সম্পূর্ণ অনৈতিক।

অভিযোগের প্রধান কারণগুলো:

  • বড় পর্দার ব্যবহার: পাকিস্তানের দাবি, জায়ান্ট স্ক্রিনে রিপ্লে দেখার পর বাংলাদেশ অতিরিক্ত সুবিধা পেয়েছে এবং এটি মাঠের প্রোটোকল লঙ্ঘন করেছে।
  • সময়সীমা অতিক্রান্ত: ডিআরএস নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ১৫ সেকেন্ডের সময়সীমা মানা হয়েছে কিনা, তা নিয়েও পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট প্রশ্ন তুলেছে। যদিও সম্প্রচারে কোনো টাইমার দেখা যায়নি, তবে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের মধ্যে স্পষ্ট অসন্তোষ ছিল।

আফ্রিদির হতাশা ও হারের যন্ত্রণা

এই রিভিউয়ের ফলে ওয়াইড সিদ্ধান্তটি বদলে যায় এবং বলটি ব্যাট ছুঁয়ে গিয়েছিল বলে নিশ্চিত হয়। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ১১ রানে ম্যাচটি হেরে যায় এবং সিরিজ হাতছাড়া করে। ইনিংসের শেষ বলে শাহিন শাহ আফ্রিদি স্টাম্পড হওয়ার পর যেভাবে মেজাজ হারিয়েছেন, তাতে পুরো ম্যাচে জমে থাকা সেই উত্তাপ ও হতাশার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

পাকিস্তানের প্রত্যাশা কী?

পিসিবি ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ আশা করছে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ধারণা করা হচ্ছে তারা অন্তত এই ভুল সিদ্ধান্তের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি দাবি করছে। সিরিজের আগের ম্যাচে সালমান আঘার বিতর্কিত রান-আউট নিয়েও পাকিস্তান শিবির বেশ ক্ষুব্ধ ছিল। টানা দুই ম্যাচে এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই পাক ক্রিকেটারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ক্রিকেট মাঠে প্রযুক্তি ও আম্পায়ারিংয়ের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কী মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়!

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *